নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
২৯ মার্চ ২০২৩ ১১:৩৬
ছবি: বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর
আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন পৃথিবীর চারপাশে ঘণ্টায় প্রায় ২৭ হাজার ৬০০ কিলোমিটার গতিতে চক্কর মারে। এর ফলে এই ল্যাবের যাত্রীরা প্রতিদিন ১৬ বার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখেন। কিন্তু এই মহাশূন্যে কীভাবে রোজা রাখেন মহাকাশচারীরা? এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই আসতে পারে। নভোচারীরা স্পেস স্টেশনে কীভাবে রোজা রাখেন সে বিষয়ে আজকে থাকছে বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে।
পবিত্র রমজানে মুসলিমরা সারা দিন পানাহার থেকে বিরত থাকার পর সন্ধ্যায় রোজা ভাঙেন সূর্যাস্ত অস্ত দেখে। এটাই নিয়ম। কিন্তু সূর্যের ঘূর্ণন যদি হঠাৎ বদলে যায়? যখন সূর্যাস্ত হওয়ার কথা, সে সময়ের অনেক আগেই কিংবা পরে যদি সূর্য ডোবে? যেমনটা হয়ে থাকে মহাশূন্যে, আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে নভোচারীদের বেলায়। এই ঘূর্ণায়মান ল্যাবরেটরি পৃথিবীর চারপাশে ঘণ্টায় প্রায় ২৭ হাজার ৬০০ কিলোমিটার গতিতে চক্কর মারে। এর ফলে এই ল্যাবের যাত্রীরা প্রতিদিন ১৬ বার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখেন।
এখন পর্যন্ত যে কয়জন মুসলিম নভোচারী মহাশূন্য ভ্রমণ করেছেন তাদের মধ্যে একজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের মহাকাশচারী সুলতান আলনেয়াদি। তিনি ৩ মার্চ মহাশূন্যে পাড়ি জমিয়েছেন। আলনেয়াদি ছয় মাস মহাশূন্যে থাকবেন, এর মধ্যেই পৃথিবীর মানুষ শুরু করেছেন পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখা। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, আলনেয়াদি এ সময় রোজা রাখবেন কী করে? মহাশূন্যে যাওয়ার আগে আলনেয়াদি বলেন, একজন নভোচারী হিসেবে তাকে ‘সফরকারীর’ তালিকায় ফেলা যায়। বলেন, সফরকারীদের জন্য রোজা ভাঙার অনুমতিও রয়েছে ইসলামে।
তবে আলনেয়াদি আরও বলেন, অসুস্থ বোধ করলে রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়। কাজেই ক্রু মেম্বারদের ঝুঁকিতে ফেলার মতো পরিস্থিতি দেখা দিলে খাবার খাওয়ার অনুমতি আছে। বলেন, তিনি স্পেস স্টেশনের স্বীকৃত টাইম জোনের সময় অনুসারে রোজা রাখতে পারবেন।
মহাশূন্যযাত্রার শুরু থেকেই মহাকাশচারীরা মহাশূন্যে নানাভাবে ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন। ১৯৬৮ সালে নাসার অ্যাপোলো ৮ মিশনে নভোচারীরা চাঁদে যাওয়ার পথে বাইবেলের প্রথম বই জেনেসিস পাঠ করেন। এরপর ২০০৭ সালে মালয়েশিয়ান নভোচারী শেখ মুজাফর শুকুর প্রথম ধর্ম পালনকারী মুসলিম হিসেবে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে অবস্থান করেন।
মুজাফর রমজানে মহাশূন্যে পাড়ি দিলেও ইসলামিক ন্যাশনাল ফতোয়া কাউন্সিল অভ মালয়েশিয়া জানায়, তিনি চাইলে যে জায়গা থেকে যাত্রা শুরু করেছেন সেখানকার টাইম জোন অনুসারে রোজা রাখতে পারবেন।
ইউএইচ/এইচআই