নিজস্ব প্রতিবেদক

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


২৮ মার্চ ২০২৩ ০১:১৮



সাতটি স্থাপনা নিয়ে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বালিয়াটি জমিদার বাড়ি (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

২৮ মার্চ ২০২৩ ০১:১৮


ছবি: বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি ১৯ শতকে নির্মিত এ বাড়িটি কালের সাক্ষী হয়ে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জানান দিচ্ছে। বালিয়াটি জমিদার বাড়ি বা বালিয়াটি প্রাসাদটি মানিকগঞ্জ জেলা সদর থেকে আনুমানিক আট কিলোমিটার পশ্চিমে। আর ঢাকা জেলা সদর থেকে পঁয়ত্রিশ কিলোমিটার দূরে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রাম অবস্থিত। ১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে গোবিন্দ রাম সাহা লবণের বণিক ছিলেন। তিনিই বালিয়াটি জমিদার পরিবারের গোড়াপত্তন করেন।

প্রায় ১৬ হাজার ৫৫৪ বর্গমিটার জমির ওপর মোট সাতটি স্থাপনা নিয়ে এ জমিদার বাড়ি। তবে এর সব ভবন একসঙ্গে স্থাপিত হয়নি। প্রাসাদের অন্তর্গত বিভিন্ন ভবন জমিদার পরিবারের বিভিন্ন উত্তরাধিকার কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে স্থাপিত হয়েছে। দালানগুলো খ্রিষ্টীয় মধ্য ঊনবিংশ শতক থেকে বিংশ শতকের প্রথম ভাগের বিভিন্ন সময়ে জমিদার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের দ্বারা নির্মিত।

দালানগুলোর সামনের চারটি প্রাসাদ ব্যবহৃত হতো ব্যবসায়িক কাজে। এই প্রাসাদের পেছনের প্রাসাদকে বলা হয় অন্দর মহল, যেখানে বসবাস করত তারা। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্লকটি জাদুঘর। এই প্রাসাদটি বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষিত ও পরিচালিত।

স্থাপনাগুলো ঘিরে রয়েছে প্রাচীর। প্রাসাদটির দক্ষিণ দিকে প্রবেশদ্বার হিসেবে চারটি সিংহদুয়ার রয়েছে এবং উত্তরে বিশাল আকৃতির পুকুর রয়েছে। পুকুরের অপর প্রান্তে রয়েছে সারিবদ্ধ শৌচাগার।  এ ছাড়া বেশ কয়েকটি কূপ রয়েছে, যা থেকে খাবার পানির জোগাড় হতো।

স্থাপনাগুলোতে দৃষ্টিনন্দন কারুকার্য  লক্ষ্য করা যায়। এই প্রাসাদের চারটি ব্লকের পেছনের অংশে চারটি আলাদা অভ্যন্তরীণ ভবন বা অন্দরমহল রয়েছে। উত্তরদিকে কিছু দূরে অবস্থিত পরিত্যক্ত ভবনটি হল বহিঃমহল, যা কাঠের কারুকার্য সম্পন্ন। এই ভবনে প্রাসাদের চাকর-বাকর, গাড়ি রাখার গ্যারেজ, ঘোড়াশাল ছিল বলে ধারণা করা হয়। এই বিশাল প্রাসাদটির চারপাশ সুউচ্চ দেয়াল দ্বারা পরিবেষ্টিত। এই প্রাসাদের তিনটি প্রবেশপথ আছে। যার প্রত্যেকটিতে অর্ধবৃত্তাকার খিলান আকৃতির সিংহ খোদাই করা তৌরণ বিদ্যমান।

জাদুঘরে এখনো সংরক্ষিত রয়েছে জমিদারদের লোহার সিন্দুক, ছোট-বড় আয়না, লাইট ও পালঙ্কসহ নানা ব্যবহৃত আসবাবপত্র। জমিদার পরিবারের বিভিন্ন উত্তরাধিকারের মধ্যে ‘কিশোরীলাল রায় চৌধুরী, রায়বাহাদুর হরেন্দ্র কুমার রায় চৌধুরী তৎকালীন শিক্ষা খাতে উন্নয়নের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। ঢাকার জগন্নাথ কলেজ, বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কিশোরীলাল রায় চৌধুরীর বাবা এবং যার নামানুসারে ওই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়।

ইউএইচ/এইচআই