নিজস্ব প্রতিবেদক

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


১৯ মার্চ ২০২৩ ১১:২২



ঘুরে আসতে পারেন বরগুনার টেংরাগিরি ইকোপার্ক (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

১৯ মার্চ ২০২৩ ১১:২২


ছবি: বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর

বরগুনার তালতলী উপজেলা থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে সোনাকাটা ইউনিয়নে সুন্দরবনের একাংশে গড়ে উঠেছে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য টেংরাগিরি ইকোপার্ক। প্রায় ৪ হাজার ৪৮ হেক্টর জায়গাজুড়ে পূর্ব পশ্চিমে ৯ কিলোমিটার ও উত্তর দক্ষিণে ৪ কিলোমিটার পর্যন্ত টেংরাগিরি বনের বিস্তৃতি। বনের পূর্বদিকে রয়েছে কুয়াকাটা, পশ্চিমে সুন্দরবন আর হরিণবাড়িয়া, উত্তরে রাখাইন এবং দক্ষিণে উন্মুক্ত বঙ্গোপসাগর। বনের ভিতরের ইট বিছানো পথ ধরে হাটতে হাটতে দূর সাগরের মাছ ধরা ট্রলারের শব্দ কানে পৌছতে না পৌছতেই, এক সময় বনের গাছপালার মাঝ দিয়ে দেখা যাবে ধু ধু সাগরের জলরাশি ও দুই কিলোমিটার দীর্ঘ নিরিবিলি সোনাকাটা বীচ।

 ১৯৬০ সালের ১২ জুলাই সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে ঘোষণাকৃত এ বনাঞ্চলটি স্থানীয়দের কাছে ফাতরার বন/পাথরঘাটার বন/হরিণঘাটার বন ইত্যাদি নামে পরিচিত হলেও ১৯৬৭ সালে বনাঞ্চলটিকে টেংরাগিরি বন হিসেবে নামকরণ করা হয়। সুন্দরবনের পর এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল, যা দিনে দুইবার জোয়ার ভাটায় প্লাবিত হয়। লবনাক্ত ও মিষ্টি মাটির অপূর্ব মিশ্রণের কারণে এই বনে রয়েছে বিলুপ্তি প্রজাতির অসংখ্য সারি সারি গাছ, পশু পাখি ও সরীসৃপ প্রাণী। টেংরাগিরির সবুজ ঘন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, লাল কাঁকড়াদের অবাধ বিচরণ, পাখির কলকাকলি ও শেষ বিকেলের দিগন্ত রেখায় সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য যেকোনো পর্যটকদের মুগ্ধ করার মতো। আর সে জন্যেই যান্ত্রিক কোলাহল এড়িয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাগরের বিশালতার মাঝে হারিয়ে যেতে অনেকে ভ্রমণ পিপাসুরা দূর-দূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসে।

প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এ বনটি কেওড়া, গরাণ, সিংরা, হেতাল, গণি, গেওয়া ও ওড়াসহ বিভিন্ন শ্বাসমূলীয় গাছ-গাছালি দেখতে পাবেন। কয়েকটি ছোট ছোট খাল বনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে যেখানে আপনি ট্রলার সংরক্ষণ করতে পারেন এবং গভীর বন এবং জীব বৈচিত্রের অপূর্ব রূপগুলি দেখতে যেতে পারেন। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আওতায় টেংরাগিরি ফরেস্ট রিজার্ভের সখিনা বিটে ইকো পার্কটি স্থাপন করা হয়েছে। এই ইকোপার্কে একটি কুমির প্রজনন কেন্দ্র রয়েছে যেখানে ৩টি কুমির রয়েছে। তিনটি কুমিরের নামকরণ করা হয়েছে বনের নাম অনুসারে যথা- টেংরা, গিরি এবং সখিনা। বর্তমানে এ বনকে শকুনের নিরাপদ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

ঘুরতে কার না ভালো লাগে । কমবেশি সবারই দূরে কোথাও ঘুরে যেতে ভালো লাগে। এক্ষেত্রে একদিকে যেমন প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থাকা যায়, তেমনি বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে কাটানো যায় সময়। তাই ভ্রমণ পিয়াসীদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠছে তালতলীর টেংরা গিরি। একদিকে শ্যামল ছায়ার কোমল পরশ, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের শোঁ শোঁ গর্জন। পৃথিবীখ্যাত মায়াবী চিত্রা হরিণের দুরন্তপনা, রাখাইন নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবনচিত্র, একই স্থানে প্রকৃতির এমন বাহারি সৌন্দর্যের সমাহার খুব কম জায়গায়ই মেলে। বরগুনায় এমন কিছু স্থান রয়েছে, যেখানে এলে প্রকৃতির এমন নিবিড় সান্নিধ্য পাওয়া যায়।

বঙ্গোপসাগরের কোলে গড়ে ওঠা এ বনে এসে কান পাতলে শোনা যায় সাগরের গর্জন। সাগর থেকে উঠে আসা বাতাসে ছন্দময় অনুরনণ তোলে বনের পত্রগুচ্ছ। তালতলী উপজেলার ফকিরহাটে অবস্থিত টেংরাগিরি একসময় সুন্দরবনের অংশ ছিল। প্রাকৃতিক এই বনকে স্থানীয় লোকজন ‘ফাতরা বন’ হিসেবে চেনে। সুন্দরবনের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় টেংরাগিরি বনাঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি পায় ১৯৬৭ সালে।

তালতলী থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত বিস্তৃত এ বনের আয়তন ১৩ হাজার ৬৪৪ একর। টেংরাগিরি বনে রয়েছে হরিণ, শূকর, চিতাবাঘ, অজগর, কুমির, শতাধিক বানর, শজারুসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণী রয়েছে। হরিণ বানরের সঙ্গে খেলা করতে করতে মানুষের কেটে যায় দিন। বনের মধ্য রাস্তার দু'পাশে রয়েছে সারি সারি গেওয়া, জাম, ধুন্দল, কেওড়া, সুন্দরী, বাইন, করমচা, বলই কেওয়া, তাল, কাঁকড়া, হেতাল, তাম্বুলকাটা গাছের মধ্যে এখানে ঘুরে বেড়ায় কাঠবিড়ালী, বানর, সাপ, শজারু, শূকর, উদ, কচ্ছপ, শৃগাল, ডোরাকাটা বাঘসহ হাজার প্রজাতির জীবজন্তু। এ বনাঞ্চলের তিন দিকে বঙ্গোপসাগর, বান্দ্রা খাল, মেরজে আলীর খাল, সিলভারতলীর খাল, ফেচুয়ার খাল, গৌয়মতলার খাল, কেন্দুয়ার খাল, সুদিরের খাল, বগীরদোন খাল। বনাঞ্চলের সখিনা বিটে ২০১১ সালে ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়।

 ইউএইচ/