নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:০২
ছবি: বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
রাজধানীর ধানমন্ডি শংকরে
রয়েছে এমন এক স্কুল যেখানে শিশুরা যেতে না পারলে কান্নাকাটি করে। সেই স্কুলের নাম তক্ষশিলা
বিদ্যালয়। ‘সংস্কৃতিই জাগরণের প্রথম সূর্য’ এই বাণীকে ধারণ করে তক্ষশিলা বিদ্যালয় পথ
চলা শুরু। বিদ্যালয়ের শিশুবান্ধব সবুজ ভূমিতে, যত্ন ও ভালোবাসায় আমরা ফলাব সম্ভাবনার
সব শস্য কণা এই ব্রত নিয়েই এই বিদ্যালয়ের পথচলা। বর্তমানে এই তক্ষশিলা বিদ্যালয়ে নার্সারি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০১০ সালে এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা
করেন বর্তমান অধ্যক্ষ নাদিমুল ইসলাম।
এই স্কুলের সকালটা শুরু
হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমাবেশের মধ্য দিয়ে। লোকগীতি, প্রমিত উচ্চারণ, আবৃত্তি ব্রতচারী,
নজরুল গীতি ও রবীন্দ্রসংগীতের মতো বিভিন্ন সংগীতের চর্চা দিয়ে শুরু হয় এই সমাবেশ।
জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ সমাবেশ। শিশুর মধ্যে নেতৃত্ব গুণ, বিশ্লেষণী দক্ষতা,
স্বনির্ভরতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বিকাশের লক্ষ্যে সংগীত, চারুকলা, আবৃত্তি,
খেলাধুলা, কম্পিউটার, আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষা ক্লাবসহ অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমের
নিয়মিত চর্চা করা হয় এই তক্ষশিলা বিদ্যালয়ে।
গতানুগতিক ধারার বাইরে
গিয়ে এ যেন এক অন্য রকম বিদ্যালয়। শিশুরাও এখানে এসে পায় নতুন এক পরিবেশের আনন্দ। পায়
এক শৃঙ্খল জীবন। এখানে সব মিলিয়ে রয়েছে ২০০ জন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক রয়েছেন ২২ জন।
প্রতিটি শিশু অনন্ত প্রতিভা
ও সম্ভাবনা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধারণ করে, বিজ্ঞানমনস্কভাবে শিশু
বেড়ে ওঠার মধ্যেই, প্রকৃত শিক্ষা অন্তর্নিহিত আছে বলে মন্তব্য করেন স্কুলটির শিক্ষকরা।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার
পাশাপাশি প্রতিটি শিশুকে স্বনির্ভর ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজন বিজ্ঞানমনস্ক
শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক শিক্ষা বলে মনে করছেন এ স্কুলটির শিক্ষকরা। তারা বলছেন,
মাতৃভাষার প্রতি আগ্রহী, রঙের ধারণা ও সংগীতের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে পারলে প্রতিটি
শিশু তার নিজের ঐতিহ্য-সংস্কৃতির সন্ধান করতে পারবে আপন মনে।