নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১০:৪০
ছবি: সংগৃহীত
প্রয়োজন যতটুকু, কিনুন ঠিক ততটুকু।
রাজধানীর দক্ষিণখানের ফায়দাবাদে পাটোয়ারী স্টোর। যেখানে মিলছে ১ থেকে ৫০ টাকার মূল্যের
নানা পণ্য। ঊর্ধ্বমূল্যের বাজারে যেখানে কেজি বা একটা নির্দিষ্ট পরিমাণের নিচে খুব
কম পণ্যই মিলে, সেখানে সাধারণের সুবিধার কথা চিন্তা করে যেকোনো ধরণের পণ্য ভাগ করে
বিক্রি করা হয়। এমন অভিনব ব্যবস্থার উদ্যোগটি চালু করছেন পাটোয়ারী স্টোরের মালিক সাহাদাত
হোসেন জুয়েল। করোনাকালিন থেকে মানুষের জন্য এই ব্যবস্থা চালু করেন এ উদ্যোক্তা।
রাজধানীর অশান্ত বাজারে সাশ্রয়ী
হওয়ার অভিনব এ পদ্ধতি নজর কেড়েছে সবার। চারপাশ যেন বদলে দেওয়ার আভাস তৈরি হয়েছে। ১
টাকার চিনি, ৩ টাকার হলুদ গুড়ো, ৫ টাকার আদা, ১ পিস মাছ, ২ টাকার কাঁচা মরিচ, ১০ টাকার
পেঁয়াজ ও ৫০ টাকার মাংস দৈনন্দিন জীবনে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু বিক্রি করেন জুয়েল। এছাড়া
কারও যদি একদিনের জিরার প্রয়োজন হয় সেজন্যও ১ টাকার জিরা কেনার ব্যবস্থা আছে। এমন সাশ্রয়ীমূল্যের
নানা পণ্য সাজানো রয়েছে এই পাটোয়ারী স্টোরে।
নুন আন্তে পান্তা ফুরানো পরিবারের
লবণ যাতে না ফুরোয় সেটিরও ব্যবস্থা করেছেন জুয়েল। সঙ্গে মনের খায়েশ মিটাতে খিচুড়ি,
মাংস আর ইলিশের একটু স্বাদ, সামর্থ্যহীন পরিবারগুলোকে দিচ্ছে আশা। যতটুকু প্রয়োজন
ততটুকু পণ্য কিনতে পারছে পরিবারগুলো। সামর্থ্যহীন সাধারণ মানুষের এক বেলার খাবার জুটে
যায় এ দোকানেই।
সবাই মানুষের চাহিদা মোতাবেক দিক,
মানুষকে জিম্মি করে কেউ টাকা ইনকাম না করুক এমন প্রত্যাশা করে দোকানদার জুয়েল বলেন,
হয়ত তার সেভাবে লাভ হয় না। কিন্তু মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পাচ্ছেন সেটা তার কাছে
অনেক বড় পাওয়া।
সাধারণ মানুষরা বলছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে কেনাকাটা করতে গেলে চাপে থাকতে হয়। এমন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় স্বস্তি পাচ্ছেন তারা। সকলের চাওয়া যদি গোটা বাংলাদেশে এমন ব্যবস্থা চালু হয় এবং সবস্তরের মানুষ একটু মানবিক হয় তাহলে স্বস্তি পাবেন সাধারণ মানুষরা।