নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:১১
ছবি: বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
কালের বিবর্তনে
হারিয়ে যেতে বসেছে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার আখ চাষাবাদ। উন্নত জাতের চারা, কৃষকদের
স্বল্প সুদে বিনিয়োগ দেওয়া, আখ মিল বন্ধ, কৃষিজমি ভরাট, ভেজাল গুড়, রপ্তানি ব্যবস্থার
নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে এ এলাকার আখ চাষাবাদ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে
চলছে। একসময় দেশের বিভিন্ন জায়গার পাইকারদের পদচারণায় মুখরিত ছিল পুরো গাইবান্ধা। তবে
এখন সেই ঐতিহ্যে হারাতে বসেছে। তবে এত প্রতিবন্ধকতার পরও থেমে নেই অনেক কৃষক। তারা
পূর্বপুরুষদের আদি পেশা আখ চাষ আজও আঁকড়ে ধরে রয়েছেন। এ ছাড়া মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক
কৃষক নিজেরাই এখন আখ থেকে গুড় বানানোর কাজ করে যাচ্ছেন।
গাইবান্ধা
জেলার সাঘাটা-ফুলছড়ি উপজেলার বড় চর এলাকায় শত শত বছর ধরে আখ চাষ করে গুড় তৈরি হচ্ছে।
সেখানে গেলে দেখা যায়, কেউ জমি থেকে আখ কেটে আনছেন। আবার কয়েকজন মিলে সেই আখ মেশিনে
মাড়াই করছেন। কেউ আবার বিশাল পাত্রে রস ঢালছেন। সেই রস আগুনে চার-পাঁচ ঘণ্টা জ্বালিয়ে
পাকা করে তা পাত্রে ঢালছেন তারা। ঠাণ্ডা হলেই তা গুড়ে পরিণত হয়। এভাবেই প্রতিটি কড়াই
থেকে গড়ে প্রায় ৫০ কেজি গুড় তৈরি করছেন তারা।
এ অঞ্চলের
সুগার মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে আখ চাষ হারিয়ে যেতে বসেছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।
তবে পূর্বপুরুষরা আখ চাষে জড়িয়ে ছিলেন বলে তারা এখনো ধরে রেখেছেন এ পেশা। অন্যান্য
ফসলের চেয়ে আখ চাষে পরিশ্রমও অনেক বেশি। অন্যদিকে এসব আখের ন্যায্যমূল্যও সেভাবে পাওয়া
যায় না বলে অভিযোগ কৃষকদের।
গাইবান্ধা
কৃষি অধিদপ্তর বলছে, জেলাজুড়ে এ বছর আখ চাষ হচ্ছে প্রায় ৫৮০ হেক্টর জমিতে। কৃষকদের
উদ্বুদ্ধ করতে নানা ধরনের পদক্ষেপ এবং ভালো জাতের আখের বীজ দিচ্ছেন বলে জানান তারা।
সরকার যদি সরাসরি তাদের কাছ থেকে আখ কেনার উদ্যোগ গ্রহণ করে তাহলে সঠিক মূল্য পাবেন দাবি কৃষকদের। এ ছাড়া সরকারিভাবে অন্যান্য ফসলের জন্য প্রণোদনা দেওয়া হলেও আখের জন্য কোনো প্রণোদনা দেওয়া হয় না। মূলত, এসব কারণেই গাইবান্ধায় আখ চাষ কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।
/ইউএইচ