ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
২১ জুলাই ২০২৩ ০৯:৩৮
ছবি : সংগৃহীত
মশা দিয়ে
তৈরি হচ্ছে কেক, তাও নাকি সুস্বাদু। করা হচ্ছে সুপও। এটা আবার তাদের জনপ্রিয় খাবার।
বর্ষার এই সময়ে মশার বিচরণ বাড়ে বিধায় সময়টাও বেশ প্রিয় তাদের। তার মানে বিশ্বের এমন
এক জাতি আছে, যাদের কাছে মশা আশীর্বাদস্বরূপ। এদের বসবাস আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া ও
এর আশপাশের এলাকায়। তাদের ওই গ্রামগুলোতে করা হয় মশা ধরার উৎসব।
মশার যন্ত্রণায়
বেশিরভাগ মানুষের জীবন যেখানে অতিষ্ঠ। সেখানে এই মশা থেকেই তৈরি হচ্ছে কেক ও স্যুপ।
যা আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া ও এর আশপাশের এলাকার মানুষের খুবই পছন্দের একটি খাবার।
প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া
গ্রেট লেক অঞ্চলে উড়তে থাকে লাখ লাখ মশা। মশার ভিড়ে কালো হয়ে আসে আকাশ। তবে এ জন্য
বিরক্ত হন না সেখানকার বাসিন্দারা।
ওই বাসিন্দাদের
কাছে মশা হলো মাংস খাওয়ার প্রধান মাধ্যম! আফ্রিকার এই অঞ্চলে খুবই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর
বাস। যারা পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার বা বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারেন না। তাই তারা বিকল্প
খুঁজে নেন মশার কেক বা স্যুপ থেকে। এটা মূলত স্থানীয় খাবার যা মাংসের বিকল্প হিসেবে
ব্যবহৃত হয়।
প্রতি বছর
বর্ষা মৌসুমে লেক ভিক্টোরিয়ার আশপাশের গ্রামগুলোতে শুরু হয় মশা ধরার উৎসব। হাতে খালি
হাঁড়ি নিয়ে তারা মশা সংগ্রহ করে। উড়তে থাকা মশার দলে একবার হাঁড়ি শূন্যে ঘোরালেই হাঁড়িতে
জমা হয় মশার স্তূপ। সেই মশা থেকেই তৈরি হয় কেক। কেক তৈরির জন্য প্রথমে সংগ্রহ করা মশা
হাতে ডলে মন্ড করতে হয়। যা দেখতে অনেকটা ভর্তার মতো। সেই মন্ড ভাগ করে মাংসের চাপের
মতো বানানো হয়। এরপর সেগুলো ভাজা হয়।
এভাবে তৈরি
মশার কেক খেতে অনেকটা মাছের বড়ার মতো। তাদের বিশ্বাস মশাগুলো ভিক্টোরিয়া লেকের আশপাশে
থাকে বিধায় তাদের মাংস থেকে সামুদ্রিক খাদ্যের স্বাদ পাওয়া যায়। মশা যতই ছোট হোক না
কেন এটা তাদের মাংসের চাহিদা পূরণ করতে পারছে। তবে প্রোটিনের অন্যতম উৎস হলেও এটা তারা
খেতে বাধ্য হয়েছেন। মশা খাওয়া তাদের জন্য কোনো বিলাসিতা নয়। বরং দারিদ্র্যের অন্যতম
এক উদাহরণ। মূলত এই অঞ্চলের মানুষ পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাবেই বিভিন্ন পোকামাকড় খেয়ে থাকেন।
ক্ষুদা মেটাতে তারা মাটির তৈরি বিস্কুটও খান।
এদিকে গবেষকরা
বলছেন, এভাবে মশা খাওয়া মোটেই নিরাপদ নয়। এতে নানান ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি হতে
পারে। তবে আফ্রিকান এই জনগোষ্ঠীর দাবি, তারা শত শত বছর ধরে এভাবে মশা খেয়ে আসছেন। তাদের
কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। গবেষকরা বলছেন, মশা খাওয়ার ফলে তাদের শরীর বিপুল সংখ্যক ভাইরাস
ও ব্যাকটেরিয়া বহন করে। উচ্চ তাপমাত্রায় ভাজা হলেও সব জীবাণু মেরে ফেলা কঠিন। যা
সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
জেডএস/