ডেস্ক রিপোর্ট

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


২০ জুলাই ২০২৩ ০৬:৩৪



ক্রসিং ভোগান্তি থেকে মুক্ত হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ

ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

২০ জুলাই ২০২৩ ০৬:৩৪


ছবি : সংগৃহীত

ক্রসিং ভোগান্তি থেকে মুক্ত হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ। কারণ আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার রেলপথ ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন আজ উদ্বোধন করা হয়েছে। সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ডাবল লাইনে ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে আর কোনো ট্রেনকে ক্রসিংয়ে পড়তে হবে না।

নতুন ৭২ কিলোমিটারসহ ৩২১ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের পুরো অংশই এখন ডাবল লাইনে উন্নীত হল। এতে নতুন যুগের সূচনা হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে। কারণ এ পথে আর কোনো ট্রেনকে ক্রসিংয়ে পড়তে হবে না। এতে যাত্রার সময় বেশ কমে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কুমিল্লা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত রেলপথ সিঙ্গেল লাইনের হওয়ায় এতদিন ক্রসিংয়ে পড়ে বিলম্বিত হত অনেক ট্রেনের যাত্রা। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকা ও সিলেটের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেত।

নতুন এ পথে মিটার গেজ ও ব্রড গেজ এ দুই ধরনের ট্রেনই চলাচল করতে পারবে। বর্তমানে এই পথে মোট ২৩ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে এ পথ দিয়ে ৭২ জোড়া ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে মালবাহী ট্রেন চলাচলের সক্ষমতাও কয়েক গুণ বাড়বে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ১২৪ কিলোমিটার ব্রিটিশ আমলে ডাবল লাইনে উন্নীত হয়। লাকসাম থেকে চিনকি আস্তানা পর্যন্ত ৬১ কিলোমিটার ডাবল লাইন হয় ২০১৫ সালের এপ্রিলে। পরের বছরে ফেব্রুয়ারিতে টঙ্গী থেকে ভৈরববাজার পর্যন্ত ৬৪ কিলোমিটার ডাবল লাইন চালু হয়।

লাকসাম থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার রেলপথে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন করতে ২০১৪ সালে ছয় হাজার ৫০৪ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয় একনেকে। ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর শুরু হয় নির্মাণ কাজ। ২০২২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা থেকে লাকসাম পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার অংশ ট্রেন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

ডাবল লাইন নির্মাণ এবং বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনের উন্নয়নে এ প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে চার হাজার ১১৮ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এক হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক। আর এক হাজার ২৬ কোটি টাকার বেশি অর্থায়ন করেছে সরকার।

সাধারণ মানুষজন বলছেন, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ ডাবল লাইন হবে। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন থেকে আর ক্রসিংয়ের ঝামেলা পোহাতে হবে না তাদের।

জেডএস/