ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১৯ জুলাই ২০২৩ ০৯:১৩
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের আগ্রায়
তাজমহলের দেয়ালের পাশে থই থই যমুনা নদীর পানি। এতে সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত শ্বেত
পাথরের স্মৃতিসৌধ তাজমহল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ তাজমহলের
চুনাপাথরে তৈরি লাল দেয়ালের পাশে যমুনার ঘোলা জল, তার মধ্যে ভাসমান আবর্জনার টুকরা।
পাশের ১৬০০ শতকের ইতিমাদ-উদ-দৌল্লার কবরের মূল কাঠামো এরইমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আর মেহতাব বাগান পানিতে পুরোপুরি ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। যমুনা নদীর তীরবর্তী অন্য আরও
কিছু স্মৃতিসৌধ ও বাগান ডুবে গেছে। তবে এখনও তাজমহরের মূল চত্বরে পানি ঢোকেনি।
তাজমহলের
পাশের দুশেরা ঘাটেও বন্যার পানি। আর বিপরীতে যমুনার তীরে মেহতাব বাগ অবস্থিত। সেখান
থেকে তাজমহল দেখা যায়। জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্রেও পানি উঠেছে। এ কারণে সেখানে পর্যটকদের
প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাজমহলে যাওয়ার জন্য যমুনা কিনার রোড ব্যবহার করা হয়।
পয়োনালা থেকে পানি উঠে সেই রাস্তাটিও তলিয়ে গেছে।
এরআগেই যমুনার
উপচে পড়া পানি দিল্লির লাল কেল্লার দেয়াল ছোঁয়। ঘটনার এক সপ্তাহ পর আগ্রার অমর স্থাপত্য
তাজমহলের দেয়াল পর্যন্ত পৌঁছে গেলো যমুনার পানি। যা ৪৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম তাজমহলের
দেয়ালের পাশে থই থই করছে। এর আগে, ১৯৭৮ সালে যমুনার পানি ছুঁয়েছিল তাজমহলের দেয়াল।
ওই সময় দিল্লিতে যমুনার পানির স্তর বেড়ে ২০৭ দশমিক ৪৯ মিটার পর্যন্ত উঠেছিল, কিন্তু
এবার ওই রেকর্ড ভেঙে পানি উঠেছে ২০৮ দশমিক ৬৬ মিটার পর্যন্ত।
ইতিমধ্যে
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করে, যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের
দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এজন্য তারা ত্রাণ ও অন্যান্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। এখন
যে অবস্থা, যদি আরও বৃষ্টি হয় অথবা পানি যদি এই উচ্চতায় আরও কয়েকদিন থাকে, তাহলে ফের
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া।
এদিকে, দুর্ভোগ
কাটেনি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির নিম্নাঞ্চলের মানুষের। যমুনা নদীর পানি বেড়ে গত সপ্তাহ
থেকেই ডুবে আছে রাস্তাঘাট। সেই পানি এখন গড়াচ্ছে উত্তর প্রদেশের আগ্রায়। সেখানে যমুনা
নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাইতো তাজমহলের বহির্দেয়ালে পৌঁছে গেছে
বন্যার পানি। এ অবস্থায় তাজমহলেও বন্যার পানি ঢুকে পড়বে কি না, সেই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত কয়েকদিন
ধরে উত্তর প্রদেশসহ ভারতের উত্তরাঞ্চলে অস্বাভাবিক ভারি বৃষ্টি হওয়ার পর যমুনা নদীতে
পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। ১ জুন বর্ষাকাল শুরু হওয়ার পর থেকে উত্তর প্রদেশে স্বাভাবিকের
চেয়ে ১০৮ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
জেডএস/