ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০১ জুলাই ২০২৩ ০৫:১৯
কোনও রাস্তায়
গাড়ি নিয়ে আটকে পড়েছেন? কোন দিকে যাবেন বুঝতে পারছেন না? চিন্তা নেই। গাড়ি বা স্মার্টফোনের
গুগল ম্যাপে জিপিএস চালু করে গন্তব্যের নাম লিখলেই দিক খুঁজে পাবেন। এক শান্ত, সুস্পষ্ট
নারীকণ্ঠ পথ চিনিয়ে নিয়ে যাবে গন্তব্যে। তবে সেই নারীকণ্ঠের নাম ও পরিচয় অনেকেরই অজানা।
জিপিএসে যে নারীকণ্ঠ শুনতে পাওয়া যায় তার নাম ক্যারেন এলিজাবেথ। তিনি ‘দ্য জিপিএস গার্ল’
নামেও পরিচিত। জিপিএস ছাড়াও অ্যাপল-এর মোবাইল বা যন্ত্রেও ‘সিরি’-র কণ্ঠও ক্যারনের।
ক্যারেন
অস্ট্রেলিয়ার একটি শহর থেকে আমেরিকার গিয়ে হয়ে উঠেছেন খ্যাতনামী গায়িকা, ভয়েসওভার আর্টিস্ট।
নিজের বক্তৃতার মাধ্যমে প্রেরণা জুগিয়েছেন বহু জনকে। কী ভাবে সাফল্যের পথে হাঁটা যায়
তা লিখেছেন তার দুটি বইয়ের পাতায়। ক্যারেনের জন্ম অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের ম্যাকয়ে।
সাত বছর বয়স থেকেই তিনি গান লিখতেন ও গাইতেন। কুইন্সল্যান্ড কনজাভেটোরিয়াম গ্রিফিথ
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কণ্ঠস্বর ও পিয়ানো বাজানোয় স্নাতক ডিগ্রিলাভ করেন। সঙ্গীতকেই পেশা
হিসাবে বেছে নেওয়ার প্রচেষ্টায় এক সময় নিজের শহর ছেড়ে সিডনিতে বসবাস করতে শুরু করেন।
সেখানের মিউজিক্যাল থিয়েটারেও দেখা যেত ক্যারেনকে। তবে পেশাদার গায়িকা হতে তাকে হাতছানি
দিয়ে ডাকছিল আমেরিকা।
প্রায় ৫০
ঘণ্টা ধরে আমেরিকার একটি স্টুডিওতে চলে রেকর্ডিং। টেক্সট-টু-স্পিচ ভয়েস সিস্টেমের সামনে
বসে ক্যারেন একটানা কথা বলে চলেন। অদ্ভুত লাগলেও তা-ই করেছিলেন ক্যারেন। সে বছরই জিপিএস
প্রযুক্তিতে চালিত যন্ত্রে ক্যারেন কণ্ঠস্বরকে বেছে নেয় বেশ কয়েকটি বহুজাতিক সংস্থা।
আমেরিকার সংবাদমাধ্যমে তার নাম হয়ে যায় ‘ড্যাশবোর্ড ডিভা’ বা ‘গ্যাজেট গার্ল’। ওই চাকরির
ইন্টারভিউয়ের পর দীর্ঘকাল কেটে যায়। আচমকাই এক পরিচিত ক্যারেনকে জানান, জিপিএস ডিভাইসে
তোমার কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে। তখনই সে দিনের রহস্যজনক ইন্টারভিউয়ের মর্মোদ্ধার করতে
পেরেছিলেন ক্যারেন।
ততদিনে আমেরিকায়
নিজের জমি পাকা করে নিয়েছেন ক্যারন। কোটি কোটি জিপিএসচালিত যন্ত্রের আড়ালে ক্যারেনের
কণ্ঠস্বর শোনা গেলেও পারফর্ম করে ফেলেছেন নোরা জোনস বা নিল সেকাডা, সিন্ডি লপার, ডেবরা
কক্স বা র্যাচেল সেজের মতো খ্যাতনামী শিল্পীদের সঙ্গে। অ্যান্ডি জুলা, ডেভিড জিপেল,
সিন ও’বয়েল বা অ্যামি পাওয়ার্সের মতো তারকাদের সঙ্গে মিলে কাজ করে ফেলেছেন। ‘ডসন’স
ক্রিক-এর মতো জনপ্রিয় টেলি-সিরিজেও গান গেয়ে নিয়েছেন ক্যারেন। পাশাপাশি ম্যাডিসন স্কোয়্যার
গার্ডেনের মতো বড়সড় একাধির স্টেডিয়ামে খেলার সময় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনা করেন ক্যারেন।
ক্যারেন
একটি জনপ্রিয় ভ্রমণ অনুষ্ঠানের প্রযোজনাও করেছেন। সেই অনুষ্ঠানে তার স্বামী ও ছেলেকে
অভিনয় করতে দেখা গেছে। কোভিড অতিমারির কারণে ২০২০ সালে নিউইয়র্ক ছেড়ে আবার কুইন্সল্যান্ড
ফিরে যান ক্যারেন। সেখানে তিনি সরকারের হয়ে একাধিক প্রচার অভিযানে কাজ করেছেন। ক্যারেনের
কণ্ঠ পথ হারানো পথিকদের বিভ্রাট অনেকখানি দূর করেছে। এখন আর অচেনা রাস্তায় বেরিয়ে গন্তব্য
খুঁজে না পাওয়ার দুশ্চিন্তা থাকে না। জিপিএস দেখে ও ক্যারেনের কণ্ঠ শুনে দিব্যি পৌঁছে
যাওয়া যায় নির্দিষ্ট স্থানে।
জেডএস/