নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
২৬ মে ২০২৩ ০৯:৩১
ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান সময়ে অনেকেই পানি পানের
বিষয়ে বেশ সচেতন থাকেন। পানিবাহিত নানা রোগ থেকে নিজেদের বাঁচাতে বিশুদ্ধ পানি পান
করেন। আর সব পরিস্থিতিতে বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করার জন্য বোতলজাত পানি হয়ে উঠেছে তাদের নিত্যসঙ্গী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্লাস্টিকের পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ‘বিপিএ’-সহ একাধিক উপাদান, যা
দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর প্রভাবে নানা ধরনের সংক্রমক এবং অসংক্রমক রোগে আক্রান্ত
হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ছাড়া বোতলজাত পানি দীর্ঘদিন পান করার ফলে ‘টাইপ ৭’ নামক এক প্রকার
প্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করার ফলে সন্তান জন্মদানেও তৈরি হয় জটিলতা।
বিপিএ হলো একটি রাসায়নিক পদার্থ,
যা অন্যান্য পদার্থের সঙ্গে মিশিয়ে প্লাস্টিক ও রেজিন তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। আর যখন
একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক দিনের পর দিন ব্যবহার করা হয়, তখন শরীরে বিপিএ প্রবেশ
করার ফলে তৈরি হয় স্বাস্থ্যঝুঁকি। এ ছাড়া বিপিএ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর ক্ষতিকরও
প্রভাব ফেলে থাকে। এমনটাই বলছে ইউরোপীয় খাদ্য সংস্থা-ইএফএ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের শরীরে যে কয়টি
বস্তুর প্রভাবে ক্যান্সার তৈরি হয়, তার প্রথম ১০টি বস্তুর একটি হচ্ছে প্লাস্টিক এবং
প্লাস্টিকজাত পণ্য। বোতল বা প্লাস্টিকজাত পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদানগুলো রক্তে মিশে গেলে কিডনিরও সমস্যা
তৈরি হয়। আর বোতলে যদি গরম পানি ভরা হয় সে ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
অন্যদিকে যাদের মূত্রে বিপিএ
রাসায়নিকের ঘনত্ব বেশি তাদের হৃদযন্ত্রের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে। এ ছাড়া অত্যাধিক
বিপিএ শরীরে প্রবেশ করার ফলে নারীদের প্রজননের পাশাপাশি পুরুষের পুরো হরমোন নিঃসরণ
প্রক্রিয়াকেও বাধাগ্রস্ত করে। আর যিনি পানি পান করছেন শুধু তিনিই নন, ক্রোমজোমের সমস্যা
তৈরি হলে সন্তানের দেহেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে প্লাস্টিকজাত পণ্য
সতর্ক হয়ে ব্যবহার করার বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যতটা সম্ভব কাচ, মাটি বা স্টেনলেস
স্টিলের জিনিস ব্যবহার করতে হবে। আর প্লাস্টিকের বোতলের পানি বা কোল্ড ড্রিঙ্কসের
বোতল একবারের বেশি ব্যবহার করা যাবে না। এ ছাড়া প্লাস্টিকজাত পাত্রে গরম কোনো খাবার
রাখা যাবে না কিংবা মাইক্রোওয়েভের ভিতরেও ব্যবহার করা যাবে না। অন্যদিকে প্লাস্টিকের
বোতল কেনার সময় পিইটি লেখা আছে কিনা, তা নিশ্চিতের পরামর্শও দেন বিশেষজ্ঞরা।
এমএইচ/