ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
২৩ মে ২০২৩ ১১:২৩
ছবি: সংগৃহিত
আন্তর্জাতিক মহাকাশ
স্টেশন বা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস সেন্টারের মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। প্রায় আট বছর
পর ২০৩১ সালে স্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। এরপর এটিকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে
প্রশান্ত মহাসাগরে ফেলা হবে। তবে কিছু কম্পানি স্টেশনটির মডিউল পুনরায় ব্যবহার
করতে চাইছে। আইএসএসের জায়গা নিতে পারে তুলনামূলকভাবে ছোট আকারের একাধিক বাণিজ্যিক
মহাকাশ স্টেশন। এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি। কিন্তু এ নিয়ে খুব
বেশি উদ্বেগের কিছু নেই। বরং আইএসএসের প্রস্থানের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানুষ
মহাকাশ ভ্রমণের নতুন ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ শুরু করতে পারবে।
১৯৯৮ সালে মহাকাশ
স্টেশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। সর্বপ্রথম রাশিয়ার জারিয়া নামক মডিউল পাঠানোর
মাধ্যমে এ স্টেশনের নির্মাণের কাজ শুরু হয়। মহাকাশে মনুষ্যনির্মিত সর্ববৃহৎ
স্থাপনাটি তৈরি করতে বিশ্বের প্রায় এক ডজনের বেশি দেশ একত্রে কাজ করেছে। তবে
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এ প্রকল্পের মাধ্যমে স্নায়ুযুদ্ধ-উত্তর সময়ে দুই চিরশত্রু
রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অংশীদারত্বের সূচনা হয়।
এই বৈশ্বিক প্রচেষ্টার
ফলে জন্ম হয় বিশাল মহাকাশ স্টেশনটির। এর আকার প্রায় একটি ফুটবল মাঠের মতো। ভর ৪০০ টনের বেশি। মহাকাশ স্টেশনটি তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি
ঘণ্টায় ২৮ হাজার ৯৮০ কিলোমিটার গতিতে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করছে।
নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে
২০০০ সালের নভেম্বরে প্রথম কোনো নভোচারী মহাকাশ স্টেশনটিতে পা রাখেন। এরপর থেকে
নিয়মিতই নভোচারীরা আসা-যাওয়া করছেন সেখানে। কিন্তু এখন স্টেশনটির যন্ত্রপাতি পুরোনো
হয়ে যাচ্ছে। তাই ২০৩১ সালে এটিকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনে মহাসাগরে
নিক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মহাকাশ স্টেশনে মার্কিন
ও রাশিয়ার ভিন্ন ভিন্ন অংশ রয়েছে। ইউরোপীয় ও জাপানের তৈরি মডিউলও আছে এটিতে। আর
এসব অংশে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করা হয়েছে। অন্যদিকে ভবিষ্যৎ
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উত্তরসূরি তৈরির কাজও ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। আশা
করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে পৃথিবীর কক্ষপথে আইএসএসের বদলে নতুন একাধিক বাণিজ্যিক মহাকাশ
স্টেশন স্থাপন করা হবে।
তবে এই মহাকাশ স্টেশন
চূড়ান্তভাবে ধ্বংস না করার একটি সম্ভাবনাও রয়েছে। অনেক কম্পানি বলছে, পুরো
স্টেশনটিকে কক্ষচ্যুত করা হবে একেবারে অপচয়। বরং এটির কিছু মডিউল ও রিসোর্স
মহাকাশে নতুন করে ভিন্ন ভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে নাসা অবশ্য এখন
পর্যন্ত এ ধরনের কোনো চিন্তায় সাড়া দেয়নি। তবে ভবিষ্যতে মত পাল্টাতে পারে বলে
জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। ফলে ধ্বংস না করে অন্য কোনো রূপে দেখা যেতে
পারে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনটিকে।
ইউএইচ/এইচআই