ডেস্ক রিপোর্ট

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


১৭ মে ২০২৩ ০৭:৫৩



শেখ হাসিনার ৪৩তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ (ভিডিও)

ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

১৭ মে ২০২৩ ০৭:৫৩


ছবি: সংগৃহীত

আজ ১৭ মে, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪৩ তম ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর, ১৯৮১ সালের ১৭ মে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে, দেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। এদিন বিকেল সাড়ে ৪টায়, ভারতের রাজধানী দিল্লী থেকে কোলকাতা হয়ে, তৎকালীন ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি। আজ শেখ হাসিনার এ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশব্যাপী নানান কর্মসূচি পালন করেছে।  

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে, নর ঘাতকরা ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকান্ডের মাধ্যমে, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, সপরিবারে হত্যা করে। এসময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান, বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কলুষিত করে, বাঙালি জাতির অস্তিত্বকে বিপন্ন করতে নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু করে ঘাতক গোষ্ঠী।

বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশে আসার আগে ১৯৮১ সালের ১৪ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি, আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশন হয়। সেখানে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে, তাকে সর্বসম্মতিক্রমে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত করা হয়।

এরপর সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে, দীর্ঘ ৬ বছর নির্বাসন শেষে, ১৯৮১ সালের ১৭ মে প্রিয় স্বদেশভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন শেখ হাসিনা। সেদিন রাজধানী ঢাকা মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। আর সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকা শহর মিছিল আর স্লোগানে প্রকম্পিত হয়। কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শেরেবাংলা নগর পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

এদিন স্বাধীনতার অমর স্লোগান, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় বাংলার আকাশ-বাতাস। জনতার বজ্রকণ্ঠে ঘোষিত হয়েছিল ‘হাসিনা তোমায় কথা দিলাম পিতৃ হত্যার বদলা নেব’; ‘ঝড়-বৃষ্টি আঁধার রাতে আমরা আছি তোমার সাথে’।

দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার করেন শেখ হাসিনা। এরপর স্বৈরতন্ত্রের চির অবসান ঘটিয়ে জনগণের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এরপর ১৯৯৬ সালে সার্বভৌম সংসদীয় পদ্ধতির শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। পরে বঙ্গবন্ধু হত্যা, জাতীয় চার নেতা হত্যা এবং যুদ্ধাপরাধের মতো ঘটনার বিচার কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্র ক্ষমতার পালা বদল হলে এ বিচার কার্য থেমে যায়।  

এরপর ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা আবারও রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসলে, বঙ্গবন্ধু হত্যা ও যুদ্ধাপরাধের মতো ঘটনায় জড়িত ঘাতকদের, শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হন। বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনা টানা তিন মেয়াদের নির্বাচনে, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে জয়ী হয়। আর সেই থেকে টানা প্রায় ১৫ বছর ধরে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ৪৩ বছরের মধ্যে, ২০ বছরই রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে সফলভাবে দেশ পরিচালনা করছেন।

এমএইচ/