ডেস্ক রিপোর্ট

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


১২ মে ২০২৩ ০৪:১৯



ঘূর্ণিঝড় সতর্কবার্তায় কোন সংকেতের কী অর্থ (ভিডিও)

ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

১২ মে ২০২৩ ০৪:১৯


ছবি: সংগৃহীত

১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করা ঘূর্ণিঝড় মোখা সুপার সাইক্লোনে রূপ নিতে পারে। ঝড়টি কক্সবাজার ও মিয়ানমারের কিয়াকপিউ বন্দরের মাঝ দিয়ে স্থলভাগে ওঠে আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে নানা ধরনের সতর্কসংকেত প্রচার করে উপকূলীয় মানুষকে সতর্ক করা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের কোন সংকেতের মানে কী তা জেনে নিন।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, দুর্যোগ-পূর্ববর্তী এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন সংকেত প্রচার করেন। যেমন দূরবর্তী সতর্কসংকেত, দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত, স্থানীয় সতর্কসংকেত, স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত, বিপদসংকেত, মহাবিপদসংকেত ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত। ঝড়ের সময় আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সমুদ্রবন্দরের ক্ষেত্রে ১১টি এবং নদীবন্দরের ক্ষেত্রে ৪টি সংকেত নির্ধারিত আছে। এই সংকেতগুলো সমুদ্রবন্দর ও নদীবন্দরের ক্ষেত্রে ভিন্ন বার্তা বহন করে।

১ নম্বর দূরবর্তী সংকেতের অর্থ হলো বন্দর থেকে জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সম্মুখীন হতে পারে। দূরবর্তী এলাকায় ঝড়ো হাওয়ার অঞ্চল রয়েছে, যেখানে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১ কিলোমিটার। ওই ঝড়ো হাওয়া সামুদ্রিক ঝড়ে পরিণত হতে পারে।

এরপর ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেতের অর্থ হলো গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঝড়ে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। তবে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চল এখনই ঝড়ে কবলিত হবে না। এ সময় বন্দর ত্যাগকারী জাহাজ পথে বিপদে পড়তে পারে।

৩ নম্বর সংকেত দিয়ে বোঝানো হয় বন্দরে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং এ সময় একটানা ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ঘূর্ণি বাতাস বইতে পারে। সে কারণে বন্দর ও বন্দরে নোঙর ফেলা জাহাজগুলো দুর্যোগে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর পরবর্তী ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দিয়ে বন্দরটিকে ঘূর্ণিঝড়কবলিত বোঝানো হয়। এ সময় বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ঘণ্টায় ৫১ থেকে ৬১ কিলোমিটার।

৫ নম্বর বিপদসংকেতে বোঝায় বন্দর ছোট বা মাঝারি ধরনের এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পতিত। এ সময় ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়টি বন্দরকে বাম দিক রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

৬ নম্বর বিপদসংকেতে বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতার এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়েছে। এই ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। এ সময় ঝড়টি বন্দরকে ডান দিক রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

৭ নম্বর বিপদসংকেত দিয়ে বোঝানো হয় বন্দর মাঝারি তীব্রতার এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে। এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়টি বন্দরকে ওপর বা নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

৮ নম্বর মহাবিপদসংকেত দিয়ে বোঝানো হয় বন্দর প্রচণ্ড তীব্রতার বিক্ষুব্ধ ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। এ সময় ঝড়ো বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে।

৯ নম্বর মহাবিপদসংকেতে বন্দর সর্বোচ্চ তীব্রতার ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। এ সময় ঝড়ো বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে। ১০ নম্বর মহাবিপদসংকেতে বন্দর সর্বোচ্চ তীব্রতার ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। এ সময় ঝড়ো বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে। এ সময় প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরের ওপর বা নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করবে।

সর্বোচ্চ মহাবিপদসংকেত ১১ নম্বরের মানে হলো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আবহাওয়া। এর মানে হলো বিপদসংকেত প্রদানকারী কেন্দ্রের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় কর্মকর্তা আবহাওয়া অত্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ বলে মনে করলেই এমন সংকেত দেন।

এমএইচ/এইচআই