ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
২৪ এপ্রিল ২০২৩ ০২:২১
ছবিঃ সংগৃহীত
পৃথিবীর
সুবিশাল অরণ্যে ছড়িয়ে রয়েছে সোনা। সেই সোনার ভান্ডার ধরা পড়ল মহাকাশ থেকেও! সম্প্রতি
নাসা প্রকাশ করেছে সেই ছবি। যা দেখে নিজের চোখকেও বিশ্বাস করছে না অনেকেই। এই সোনার
ভান্ডারের দেখা মিলেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে। লাতিন আমেরিকার এই বিশাল সোনার
খনিটির নাম মাদ্রে-দে-দিয়োস।
বিশ্বের
মধ্যে সবচেয়ে বেশি সোনা উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে পেরু। এই সোনার
খনিতে কাজ এবং জঙ্গলে সোনা খুঁজেই জীবন নির্বাহ করে সেখানকার হাজারো পরিবারের সদস্যরা।
তবে পেরুর এ সোনার খনি সম্পর্কে অনেক তথ্য আগে পাওয়া গেলেও দেখতে কেমন সেটা আগে সেভাবে
মানুষ দেখেনি, আর সেটার ছবিই মহাকাশ থেকে তোলা হয়েছে। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
চর্চা এবং কৌতূহলও বাড়ছে। তবে খনির এমন আকর্ষণীয় দৃশ্য এর আগে কখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
মহাকাশযান
থেকে তোলা সেই ছবিতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে সোনার খনি কত দূর বিস্তৃত। সোনার খনির স্বর্ণালি
রং ধরা পড়েছে নাসার তোলা সেই ছবিতে। এতটাই বড় এই সোনার খনি যে, সূর্যের আলো পড়লে
পুরো এলাকা চকচক করে। পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ থেকে তোলা হয়েছে সেই ছবিটি। দৃশ্যত এই খনিকে
বেশ সুন্দর এবং আকর্ষণীয় মনে হলেও, এই স্বর্ণভান্ডারের কারণেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে
আমাজনের মাইলের পর মাইল ঘন অরণ্য। যা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।
যে
ছবি নাসা প্রকাশ করেছে তাতে খনির বাঁ দিকে ইনামবারী নদী দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়াও জঙ্গলের
মাঝে জলভর্তি বড় বড় গর্তও দেখা যাচ্ছে। সেগুলোও স্বর্ণালি রঙের। স্থানীয়রা অবৈধ ভাবে
সোনা খুঁজতে গিয়ে এই গর্তগুলি বানিয়েছেন। এদিকে নাসা প্রকাশিত ছবির নীচের অংশে রয়েছে
২০১১ সালে বানানো হাইওয়েও। এটিই একমাত্র রাস্তা যা পেরুকে ব্রাজিলের সঙ্গে সড়কপথে
যোগাযোগ করেছে। আর সোনার জঙ্গলের কিছু অংশ টেম্বোপাতা জাতীয় উদ্যানের মধ্যে পড়ে।
এছাড়া পরিবেশবিদরা জানিয়েছেন, সোনার খনি খননে মিথাইলমারকারি নামে এক বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। সেই রাসায়নিক এখানকার নদী ও জলাশয়গুলিতে ছড়িয়ে পড়ছে। যা আমাজনের ‘স্বাস্থ্যের’ পক্ষেও অত্যন্ত ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন তারা।
জিএম/