ডেস্ক রিপোর্ট

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


২৪ এপ্রিল ২০২৩ ০১:৫৯



যে পাখিকে ছুঁলেই মানুষের মৃত্যু হতে পারে (ভিডিও)

ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

২৪ এপ্রিল ২০২৩ ০১:৫৯


ছবিঃ সংগৃহীত

বিষাক্ত সাপ, পোকামাকড়, সরীসৃপ সম্পর্কে অনেক কথাই শুনেছি। কিন্তু বিষাক্ত পাখি? এমন কথা বোধহয় আগে কেউ কখনও শোনেননি। অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবে এমন পাখি আছে, যেগুলো প্রাণঘাতী। ডেনমার্কের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এমনই দুই প্রজাতির পাখির সন্ধান পেয়েছেন। এই দুই প্রজাতির পাখি কোনও রকমে ছুঁয়ে ফেললে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে বলে জানায় বিজ্ঞানীরা। 

ডেনমার্কের বিজ্ঞানীদের দাবি, অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তরের দ্বীপ নিউ গিনির গভীর অরণ্যে রুফাস-নেপ্‌ড বেলবার্ড ও রিজেন্ট হুইস্‌লার— এই দুই প্রজাতির ঘাতক পাখির সন্ধান পাওয়া গেছে। কেন এই দুই প্রজাতির পাখি প্রাণঘাতী তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জঙ্গলের বিষাক্ত ফল আর খাবার খেয়ে নিজেদের মধ্যে একটা প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলেছে। সেই বিষের ক্ষমতা শুধু সহ্য করাই নয়, নিজেদের শরীরে বিষ সঞ্চয় করে রাখে এই পাখিরা। সেই বিষ পালক এবং ডানাতেও সঞ্চিত থাকে।

এদিকে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এই প্রজাতির পাখিদের শরীরে বাত্রাকোটক্সিন নামে অত্যন্ত ঘাতক নিউরোটক্সিন বিষ পাওয়া গিয়েছে। আর সেই ঘাতক বিষ সঞ্চয় করে পালকে। এই বিষ শরীরের সংস্পর্শে এলে ভয়ানক খিঁচুনি শুরু হয়, এমনকি হৃদ্‌যন্ত্র বিকল হয়ে মৃত্যুও হতে পারে। এর আগে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকায় পাওয়া ‘ডার্ট ফ্রগ’ নামের ব্যাঙের শরীরে যে ধরনের বিষ পাওয়া গেছে, এই দুই প্রজাতির পাখির দেহেও একই ধরনের বিষ পাওয়া গেছে। বেলবার্ড ও হুইসলার পাখির বিষ একজন মানুষকে মেরে ফেলার মতো ক্ষমতা রাখে।

তবে বিজ্ঞানীরা বোঝার চেষ্টা করছেন, কী ভাবে এই দুই প্রজাতির পাখি ভয়ানক বিষ সহ্য করছে। কী ভাবেই বা নিজেদের খাপ খাইয়ে তুলল এই বিষের সঙ্গে। প্রাথমিক ভাবে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, যে অঞ্চলে এই দুই ধরনের পাখির দেখা মিলেছে, সেখানে সোডিয়ামের মাত্রা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় পাখিগুলোর মধ্যে বিষ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা বেড়েছে। এদিকে অন্য কোথাও এই বিষাক্ত পাখি রয়েছে কিনা এবং এর বিষের বিষয়ে আরও গবেষণা করছে বিজ্ঞানীরা।

জিএম/