ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
২৪ এপ্রিল ২০২৩ ০১:০৬
ছবিঃ সংগৃহীত
বেশিরভাগ পুরুষ তার পুরো জীবনে কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু
বানাতে পারেন না। তবে তারা নিজেদের বন্ধুদের সঙ্গে নিবিড় হওয়ার জন্য ভেতরে ভেতরে
প্রবল ইচ্ছে পোষণ করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে ২ হাজারের বেশি মানুষের ওপর করা জরিপে অংশগ্রহণকারী
অর্ধেকের বেশি জানিয়েছেন তারা তাদের বন্ধুসংখ্যা নিয়ে সন্তুষ্ট হন।
ওই জরিপে আরও দেখা যায়, নারীদের চেয়ে পুরুষেরা তাদের বন্ধুদের আবেগীয় সমর্থনের ওপর
নির্ভর বা ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ কম করেন। এজন্য তাদের বন্ধুর সংখ্যাও কম
নারীদের তুলনায়। এ বিষয়ে দ্য নিউ ইয়র্ক
টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে বন্ধু বানানোর চেষ্টা করতে পুরুষদেরকে চারটি কৌশলের
পরামর্শ দিয়েছে।
জন্মের
পর থেকেই পুরুষদের শেখানো হয় কীভাবে তারা পুরুষ হিসেবে বেড়ে উঠবে। তাদেরকে শেখানো
হয় শক্তিশালী হতে, প্রতিযোগিতায় না হারতে ও ভাবলেশহীনতা প্রদর্শন করতে। আর এগুলোর
কারণেই পুরুষরা অন্যদের সঙ্গে অর্থপূর্ণ কোনো সম্পর্ক গড়ে তুলতে চ্যালেঞ্জের মুখে
পড়েন। তবে আপনি পুরুষ হয়েছেন বলেই যে আপনার মধ্যে কোনো দুর্বলতা থাকবে না, তা হতে
পারে না। আর এ দুর্বলতা ঢাকার চেষ্টা করবেন না, বরং প্রকাশ করুন। আর এতে আপনার
অসুবিধা বোধ হলেও এটিকে এড়িয়ে যাবেন না।
এ
বিষয়ে মনস্তাত্ত্বিকবিদ ড. ফ্রাংকো বলেন, তিনি তার পেশাদার জীবনে অনেক পুরুষকে
দেখেছেন যারা বিশ্বাস করেন, প্রাপ্তবয়স্কদের বন্ধুত্বও ছোটবেলার মতো স্বাভাবিক
পদ্ধতিতে নিজে থেকেই গড়ে ওঠে। তবে 'প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে এসে বন্ধু তৈরি করতে হলে
আপনাকে একটু চেষ্টা করতে হবে,' বলেন এ মনস্তাত্ত্বিক। তার পরামর্শ, বন্ধুত্ব গড়ে
তুলতে হলে আপনাকে নিয়মিত সামাজিক পরিস্থিতিগুলোতে অংশগ্রহণ করতে হবে। এ
পরিস্থিতিগুলো হতে পারে কোনো ক্লাবে যোগদান, কোনো সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ। কারণ
এগুলোর মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের পরিচয়ে বন্ধুত্ব তৈরি হতে পারে।
এছাড়া
সামাজিকীকরণের প্রক্রিয়ায় বন্ধুও তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে। কাউকে খেলতে
ডাকা, কোথাও একসঙ্গে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো; এসবের মাধ্যমে যেমন সামাজিক সম্পর্ক
জোরদার হয়, পাশাপাশি বাড়তি পাওনা হিসেবে বন্ধুত্বও তৈরি হয়ে যেতে পারে। দৈনন্দিন
জীবনের কাজকর্মগুলোকে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগেও পরিণত করা উচিত বলে
পরামর্শ দিয়েছেন ড. ফ্রাংকো।
অন্যদিকে ড. ফ্রাংকো আরও বলেন, হুটহাট বন্ধুবান্ধবের খবর নিলে তা-তে বন্ধুরা দারুণ খুশি হয়। এরকম হাই-হ্যালো বলা যেতে পারে টেক্সট মেসেজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে। 'মানুষ মনে করে, অন্যরা বুঝি খুব ব্যস্ত। তাদের এত সময় নেই। কিন্তু ব্যাপারটা বাস্তবে ভিন্ন। তাই ড. ফ্রাংকোর পরামর্শ বন্ধুদের মেসেজ পাঠান; জিজ্ঞেস করুন তারা কেমন আছে, কী করছে এসব। তাহলেই আপনি বন্ধুত্বের জন্য যথেষ্ঠ মানুষ পাবেন।
জিএম/