ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১৯ এপ্রিল ২০২৩ ১০:৫১
বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর
সম্প্রতি সুদানের রাজধানী খার্তুমসহ বিভিন্ন জায়গায় বড় ধরনের লড়াই শুরু হয়েছে। এ লড়াই দেশটির সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বের সরাসরি দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সেনাবাহিনীর নিয়মিত সৈন্য এবং আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ) সদস্যদের মধ্যে এই সংঘর্ষ চলছে।
এই সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে শীর্ষ দুই জেনারেল এবং এই সংঘর্ষের জন্য তাদের নেতৃত্বাধীন দুই বাহিনীই পরস্পরকে দায়ী করছে। কিন্তু হঠাৎ করে কেন এই লড়াই শুরু হলো তা নিয়ে বিস্তারিত থাকছে বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোরের আজকের প্রতিবেদনে-
এই সংঘর্ষে ইতোমধ্যেই অনেক বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সেনাবাহিনী ও আরএসএফ বাহিনীর
মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষের ফলে বড় ধরনের দেশটি অনিশ্চয়তায় পতিত হয়েছে বলে মনে করেছেন
বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে সুদানে ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে জেনারেলদের একটি কাউন্সিল দেশটি
পরিচালনা করছে। কিন্তু পরে বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের মধ্যে তৈরি হয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব।
মূলত কাউন্সিলের শীর্ষ দুই সামরিক নেতা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং জেনারেল
মোহামেদ হামদান দাগালোকে ঘিরেই এই বিরোধ। আর জেনারেল আল-বুরহান সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর
প্রধান এবং সে কারণে তিনিই দেশটির প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে দেশটির উপ-নেতা জেনারেল মোহামেদ হামদান দাগালো আরএসএফের কমান্ডার। অল্প কিছুদিন
আগেও তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল। সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে ২০১৯ সালে ক্ষমতা
থেকে সরাতে তারা দুজন একসঙ্গে কাজ করেছেন। আর ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানেও তারা
একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু একপর্যায়ে আগামীতে দেশটি কীভাবে
পরিচালিত হবে তা নিয়েই এই দুই নেতার মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। বিশেষ করে সুদানের ভবিষ্যৎ
এবং দেশটির বেসামরিক শাসনে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাবনা নিয়ে তারা ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ ছাড়া এই দুই জেনারেলের মধ্যে যে বিষয়টি বিরোধের একেবারে কেন্দ্রে
রয়েছে তা হচ্ছে এক লাখ সদস্যের র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত
করার পরিকল্পনা এবং তার পরে নতুন এই বাহিনীর নেতৃত্বে কে থাকবে সে বিষয়টি।
এমন পরিস্থিতিতে উত্তেজনা নিরসনে কিছু আলাপ-আলোচনাও শুরু হয়েছিল। আশা করা হচ্ছিল সংলাপের মধ্য দিয়ে এই উত্তেজনা কমবে এবং বিরোধের অবসান ঘটবে। কিন্তু আলোচনায় কোনো সমাধান আসেনি। তার জের ধরেই গত শনিবার এ লড়াই শুরু হয়। আরএসএফ বাহিনীর প্রধান জেনারেল দাগালো বলেছেন, তার সৈন্যরা সব সেনা ঘাঁটি দখল না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে। অন্যদিকে আরএসএফকে ধ্বংস না করা পর্যন্ত আপস-আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে সুদানের সশস্ত্র বাহিনী।
সামরিক বাহিনীর ভেতরে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে শুরু হওয়া এ লড়াইয়ের ফলে বেসামরিক সরকারের
কাছে দেশটির শাসনভার হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে বলে মনে করছেন
বিশেষজ্ঞরা।
ইউএইচ/এইচআই