নিজস্ব প্রতিবেদক

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


১৬ এপ্রিল ২০২৩ ১১:০৩



যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সার্বক্ষণিক ব্যবহারের জন্য যা রয়েছে (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

১৬ এপ্রিল ২০২৩ ১১:০৩


ছবি: বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপ্রধানরা কোথায় থাকেন, তাদের গাড়ি ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র নিয়ে যে কারও কৌতূহল থাকাই স্বাভাবিক। তবে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপ্রধানের পদ পাওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তার জন্য প্রস্তুত থাকে হোয়াইট হাউস, বিশেষ মডেলের ১২টি লিমুজিন গাড়িসহ একটি বোয়িং ৭৪৭২০০বি উড়োজাহাজ। বিশ্বের অন্য রাষ্ট্রপ্রধানদের চেয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের গাড়ি, বাড়ি ও উড়োজাহাজ বেশ আলাদা। এ নিয়ে বিস্তারিত থাকছে বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে।

বিশ্বের অন্য রাষ্ট্রপ্রধানদের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী গাড়িটি বেশ আলাদা। প্রেসিডেন্টকে সুরক্ষার সুবিধার্থে এটাকে 'দ্য বিস্ট' হিসেবে অবহিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কম্পানি জেনারেল মোটরস ২০০১ সালে সর্বপ্রথম ভি৮ ইঞ্জিনবিশিষ্ট এই গাড়িটি নির্মাণ করে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সময়। পরবর্তী সময়ে বারাক ওবামা, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বর্তমান জো বাইডেনকে নিরাপদে বহন করে চলেছে বিলাসবহুল ভারী সাঁজোয়াযান লিমুজিন ক্যাডিলাক ওয়ান। প্রেসিডেন্টের জন্য রয়েছে ক্যাডিলাকের অভিন্ন মডেলের ১২টি লিমুজিন। বিজনেস ইনসাইডারের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেখানেই যান তার সঙ্গে কমপক্ষে দুটি বিস্ট থাকে। যার ওজন প্রায় ১০ হাজার কেজির সমান। প্রেসিডেন্টের গাড়িবহর অন্তত ৪৫টি সশস্ত্র যান দিয়ে ঘেরা থাকে। এটা নির্মাণে স্টিল, অ্যালুমনিয়াম, টাইটানিয়াম ও সিরামিক ব্যবহার করা হয়েছে। গাড়ির দরজাগুলো ৮ ইঞ্চি পুরু।

এনবিসি নিউজের তথ্যসূত্রে, একেকটি ক্যাডিলাক লিমুজিনের পেছনে ব্যয় করতে হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার। ১৮ ফুট দীর্ঘ এবং ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার এই গাড়িটি শুধু প্রতিরক্ষার জন্য ডিজাইন করা হয়নি বরং পাম্প-অ্যাকশন শটগান, টিয়ার গ্যাস লঞ্চার এবং একটি তেল স্লিকসহ সীমিত আক্রমণাত্মক ব্যবস্থার সঙ্গে সজ্জিত। এতে নাইট ভিশন ক্যামেরাও রয়েছে। পাশাপাশি গাড়িতে আছে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা, নাইট ভিশন, টিয়ার গ্যাস ক্যানন এবং ফ্রিজ। যাতে বর্তমান প্রেসিডেন্টের রক্তের সঙ্গে মিলিয়ে রক্ত সংগৃহীত থাকে।

বাইডেনের সার্বক্ষণিক ব্যবহারের জন্য তৈরি রয়েছে একটি বোয়িং ৭৪৭২০০বি উড়োজাহাজ। এটি বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ উড়োজাহাজ হিসেবে বিবেচিত। এয়ারফোর্স ওয়ান প্রেসিডেন্টের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। উড়োজাহাজটিতে রয়েছে উড়ন্ত অবস্থায় জ্বালানি ভরার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এর মধ্যে অবস্থানের সময় মোবাইলে হোয়াইট হাউসকে যেকোনো কমান্ড দিতে পারবেন প্রেসিডেন্ট। তিন তলাবিশিষ্ট উড়োজাহাজটির ভেতরে প্রায় ৪ হাজার বর্গফুট জায়গা রয়েছে। যেখানে একসঙ্গে ১০০ জন বসে খেতে পারেন। সিনিয়র সদস্য, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি ও বিমানের কর্মীদের জন্য আলাদা থাকার জায়গাও আছে। এই বিমানের জ্বালানি ধারণক্ষমতা এতটাই যে, সারা বিশ্বে চক্কর দিতে পারবে। ১৯৯০ সালে বোয়িং প্রথমবারের মতো এয়ার ওয়ান উড়োজাহাজ দেয়। এটি প্রথম ব্যবহার করেন জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ।

হোয়াইট হাউস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। ২০০ বছরেরও বেশি পুরোনো এ বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক ইতিহাস। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মেয়াদকালীন বাসভবনও। এর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ১৬০০ পেনসিলভানিয়া এভিনিউয়ে। এই রাষ্ট্রপ্রধানের ভবনে দর্শনার্থীরাও ভ্রমণের সুযোগ পান। হোয়াইট হাউসে রয়েছে ৬টি ফ্লোর, ১৩২টি কক্ষ, ৩৫টি বাথরুম। এ ছাড়া ৪১২টি দরজা, ১৪৭টি জানালা, ২৮টি ফায়ারপ্লেস, ৮টি সিঁড়ি এবং ৩টি লিফট রয়েছে। হোয়াইট হাউস তিনটি অংশে বিভক্ত। দুই পাশে ইস্ট উইং ও ওয়েস্ট উইং এবং মাঝখানে এক্সিকিউটিভ রেসিডেন্স অংশ। গুরুত্বপূর্ণ কক্ষগুলোর বেশির ভাগই ওয়েস্ট উইংয়ে অবস্থিত। এগুলোর মধ্যে ওভাল অফিস, সিচুয়েশন রুম, রুজভেল্ট রুম উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া এক্সিকিউটিভ রেসিডেন্স ও ইস্ট উইংয়েও রয়েছে আকর্ষণীয় বেশকিছু কক্ষ।

ইউএইচ/এইচআই