নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১১ এপ্রিল ২০২৩ ০৩:৩৪
ছবি: সংগৃহীত
নববর্ষ মানেই
নতুন আশা, নতুন প্রত্যয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে সারা বিশ্বের রাজনীতি ও অর্থনীতি
এবং সামাজিক জীবনে চলছে অস্থিরতা। যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাবে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি সব কিছুকে
তছনছ করে দিয়েছে। এর ঢেউ লেগেছে বাংলাদেশেও। চলছে নানা ধরনের অস্থিরতা। ঠিক এমনই এক
প্রেক্ষাপটে এবার বাংলা নববর্ষ ১৪৩০ কে স্বাগত জানাচ্ছে বাঙালি। সব অশান্তি দূর হয়ে
যাক, নববর্ষের আগমনে—এমন আকঙ্ক্ষাই এখন বাঙালির ঘরে ঘরে। তাই ‘বরিষ ধরা মাঝে শান্তির
বারি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবার পালন করা হবে পহেলা বৈশাখ, বের করা হবে মঙ্গল
শোভাযাত্রা। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ।
বঙ্গাব্দ
১৪৩০ শুরু হতে আর মাত্র চার দিন বাকি। নববর্ষ উদযাপনের সবচেয়ে বড় আয়োজন এই মঙ্গল শোভাযাত্রার
আতুরঘর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের এই মুহূর্তে চলছে তুমুল ব্যস্ততা। ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক নাজির
হোসেন খান জানালেন, বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এবারের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য
ঠিক করা হয়েছে।
শনিবার ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ঘুরে দেখা যায়, মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতির কর্মযজ্ঞে
নিবেদিত শিক্ষার্থীদের। এর মধ্যে নববর্ষ গুরুত্বর্পূর্ণ একটি অংশ হচ্ছে বর্ষবরণের তহবিল
সংগ্রহ কার্যক্রম। অনুষদের জয়নুল গ্যালারির সামনে এ তহবিল সংগ্রহের কার্যক্রম চলছে।
সেখানে ক্রেতার আশায় বসে আছেন আয়োজকদের কেউ কেউ। আবার কেউ আঁকছেন ছবি, কেউ বানাচ্ছেন
মুখোশ। এগুলো বিক্রি করেই তহবিল সংগ্রহ করা হয়।
এবার মঙ্গল
শোভাযাত্রার এসব কর্মযজ্ঞের দায়িত্বে রয়েছেন চারুকলার ২৩ ও ২৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
চারুকলার প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, জয়নুল গ্যালারির সামনে ছবি
আঁকছেন একদল শিক্ষার্থী। জলরঙ ও অ্যাক্রেলিকে বিভিন্ন আকার ও রকমের চিত্রকর্ম আঁকছেন
তারা। পাশেই আরেক দল শিক্ষার্থী ব্যস্ত সরাচিত্র নিয়ে। মাটির সরায় নানা রঙে কেউ ফুটিয়ে
তুলছেন মাছ-ময়ূর-পাখির মুখ, কেউবা আঁকছেন ফুল-লতাপাতাসহ নানা মোটিফ।
জয়নুল গ্যালারির
একটি কক্ষে প্রবেশ করতেই দেখা গেল বাঘ-সিংহ-হাতি ও পেঁচাসহ নানা কিছুর লোকজ কাঠামোর
মুখোশে রং করতে ব্যস্ত আরেক দল শিক্ষার্থী। চারুকলার জয়নুল স্কুল ঘরে বেশ কজন শিক্ষার্থী
মাউনবোর্ড দিয়ে ছোট ছোট পাখি বানাচ্ছেন। একইসঙ্গে তাতে রং লাগানো হচ্ছে। সেসঙ্গে রয়েছে
হাতপাখা আর চড়কি।
এবারের মঙ্গল
শোভাযাত্রা চারুকলার সামনে থেকে শুরু না হয়ে টিএসসির সামনে থেকে শুরু হবে বলে জানান
মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন কমিটির আহবায়ক ওম প্রকাশ। চারুকলা অনুষদের প্রস্তুত করা মুখোশ
হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে।
বরাবরই মঙ্গল
শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী চারুকলা অনুষদে চলে তহবিল সংগ্রহের কার্যক্রম।
এবারও তা শুরু হয়েছে গত ১৯ মার্চ থেকে। কিন্তু রমজানের কারণে প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি
খুবই কম বলে জানান আয়োজকরা।
এমএইচ/