আবুল বাশার, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১০ এপ্রিল ২০২৩ ০৮:০৪
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বব্যাপি প্রতিবছর ক্যানসারসহ
বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগে লাখ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে। এবার সেই ক্যানসারসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী
রোগের টিকা আবিষ্কারের সুখবর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচানো
সম্ভব হতে পারে বলে শীর্ষস্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যাল ফার্ম মডার্না বলছে, ক্যানসার,
কার্ডিওভাসকুলার এবং অটোইমিউনের মতো রোগের টিকা ২০৩০ সালের মধ্যেই প্রস্তুত হবে।
দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় গবেষকরা
বলেছেন, এই ক্যানসারসহ
বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের টিকা নিয়ে গবেষণাগুলো দারুণ আশা
দেখাচ্ছে। আর করোনার টিকাকে এ জন্য ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। অল্প সময়ে করোনার টিকা বের
হওয়ায় বিষয়টি গবেষণাকে আরও গতি দিয়েছে বলেও জানায় তারা।
এ বিষয়ে
মডার্নার চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডা. পল
বার্টন বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ ধরনের প্রায় সব রোগের চিকিৎসা দিতে সক্ষম হবেন
তারা। বলছেন, করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার করা প্রতিষ্ঠানটি
এখন বিভিন্ন ধরনের টিউমারকে লক্ষ্য করে ক্যানসারের ভ্যাকসিন তৈরি করছে। আরও বলেন,
তাদের ভ্যাকসিনটি অত্যন্ত কার্যকর হবে এবং এটি কোটি মানুষের প্রাণ না বাঁচালেও লাখ
লাখ মানুষ এটি নিয়ে উপকৃত হবে।
অন্যদিকে গবেষকরা বলছেন, এমআরএনএ
টিকার মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের নির্দোষ স্পাইক প্রোটিনগুলোকে মানুষের শরীরে ঢুকানো
হয়। এগুলো টিকা নেওয়া মানুষের শরীরে জিনগত নির্দেশনা দিয়ে স্পাইক প্রোটিন তৈরি
শুরু করে। এই প্রোটিন বা অ্যান্টিজেনগুলো ক্ষতিকর সেলগুলোকে শনাক্ত করতে এক ধরনের
বার্তা দেয়। এরা তখন শরীরে রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে বলে দেয় কী করতে হবে এবং কাকে
খুঁজতে হবে।
এবিষয়ে মডার্না বলছে, ক্যানসারের টিকা তৈরির ক্ষেত্রে করোনার ভ্যাকিসিনের মতো একই ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। যেখানে রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা ক্যানসারের সেলকে নষ্ট করে ফেলবে। বলছে, তাদের কাছে বিরল রোগের জন্য এমআরএনএ-ভিত্তিক থেরাপি থাকবে। আর, ১০ বছর পর এমন একটি বিশ্বের কাছে চলে যাওয়া যাবে, যেখানে সত্যিকার অর্থে একটি রোগের জেনেটিক কারণ শনাক্ত করতে পারবে মানুষ। তখন এমআরএনএ-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সকল ধরনের প্রাণঘাতী রোগকে ঠিক করা যাবে।
এমএইচ/