নিজস্ব প্রতিবেদক

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


০৬ এপ্রিল ২০২৩ ০১:২৫



বহুবিধ অপরাধে সম্পৃক্ত নাফিজ (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

০৬ এপ্রিল ২০২৩ ০১:২৫


ছবি: বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

আই ডোন্ট টক মাচ, আই জাস্ট পুল দ্যা ট্রিগার'। ২০১৭ সালে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর জামিনে বেড়িয়ে এসে নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে এমন পোস্ট দিয়েছিলেন আলোচিত নাফিজ মোহাম্মদ আলম। 

সম্প্রতি ডয়চে ভেলের একটি রিপোর্টে র্যাবের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন নাফিজ। অথচ বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে নাফিজের নানা অপকর্মের তথ্য। তার বিরুদ্ধে হত্যা, সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

২০১৭ সালে রাজধানীর উত্তরায় স্কুলছাত্র আদনান হত্যা মামলার অন্যতম আসামী, নাফিজ মোহাম্মদ আলম ওরফে ডন। সে সময়ে তিনি উত্তরাকেন্দ্রিক কিশোর গ্যাংগুলোর অন্যতম ডিসকো বয়েজ গ্রুপের ছিলেন।

২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি, উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর রোডে ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র, আদনান কবিরকে খেলার মাঠে কুপিয়ে আহত করে ডিসকো বয়েজ নামের গ্যাং। চিকিৎসার জন্য তাকে উত্তরার একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় আদনানের বাবা কবির হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি আদনান কবীর হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কথিত ডিসকো বয়েজ ও বিগ বস গ্যাং গ্রুপের দলনেতাসহ আট সদস্যকে আটক করে র‌্যাব। আটককৃতদের কাছ থেকে তিনটি চাকু, দুটি চাপাতি, দুটি রড, তিনটি চেইন, তিনটি স্প্রে কালার বোতল, দুটি স্কুল ব্যাগ ও চার পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আদনান হত্যায় সম্পৃক্ত ছিল বলে জানায়। পরে জামিনে ছাড়া পান নাফিজ। সে সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নাফিজের নানা অপকর্মের সংবাদ প্রকাশ হয়।

পরে ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ, আদনান হত্যা মামলায় ২৬ সদস্যের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। অভিযুক্ত এ ২৬ জনের মধ্যে ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে প্রতিবেদন দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এ অপ্রাপ্তবয়স্কের তালিকায় ছিল নাফিজ মোহাম্মদ আলমের নাম।

২০২১ সালে আবারও অপকর্মে জড়িয়ে আলোচনায় আসেন নাফিজ মোহাম্মদ আলম। শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নেন বাসা ভাড়া। এরপর শুরু করেন মাদকের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা। এভাবে মাদকের এক সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন নাফিজ মোহাম্মদ আলম। তিনি সহজে মাদক সরবরাহ ও বিক্রির জন্য নিজেকে পুলিশ হিসেবে পরিচয় দিতেন। কিন্তু সে অপকর্মেও বাধ সাজে র‌্যাব। ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর- র‌্যাবের অভিযানে বান্ধবীসহ আটক হন মাদক ব্যবসায়ী নাফিজ। ওইসময় তার বাসার খাটের নিচে, আলমারিতে, ফ্রিজে পাওয়া যায় থরে থরে সাজানো বিদেশি মদ। সে অভিযানে বিপুল পরিমাণ আইস, প্যাথেড্রিন, গাজা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর ব্যবহৃত ওয়াকিটকি, পুলিশের ক্যাপ, ব্যাজসহ দু'টি খেলনা পিস্তলও উদ্ধার করে র‌্যাব।

ওই সময় র‌্যাব জানিয়েছিল, নিজেকে একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী দাবি করা নাফিজ গুলশান, বনানীসহ রাজধানীর অভিজাত এলাকায় মাদক সরবরাহ করতো। বসুন্ধরার বাসা ব্যবহার করতো মাদকের গুদামঘর হিসেবে।

হত্যা, মাদক ব্যবসায় একাধিকবার কারাগারে গেলেও বারবারই নাফিজ বেড়িয়ে এসেছেন প্রভাবশালী পিতার সহযোগিতায়। একটি সূত্র জানিয়েছে, নাফিজের বাবা একজন পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা। নাফিজের বাবা পিতৃস্নেহের কারনে নিজের প্রভাব খাটিয়ে সন্তানকে মুক্ত করেন। কিন্তু নাফিজ নিজেকে শোধরানোর পথ নেয়নি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাফিজ মোহাম্মদ আলমের আইডি ঘেটে দেখা যায়, তিনি বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী ও র‌্যাবের বিরুদ্ধে নিয়মিত নানা বিষেদাগার করে থাকেন। পোস্ট দেখে বোঝা যায় তার অপকর্মের বাধা হয়ে দাড়ানোয় র‌্যাবের উপরে ক্ষোভ এখনো রয়ে গেছে।

সম্প্রতি ডয়েচে ভেলে সাক্ষাৎকার দিয়ে র‌্যাবের বিরুদ্ধে বিষেদাগার পুরনো ক্ষোভ থেকে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

এমএইচ/