ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০৫ এপ্রিল ২০২৩ ০৮:০৩
ছবি: সংগৃহীত
ক্ষমতায়
থাকাকালে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বেশ আলোচিত ছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবারের ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে আবারও আলোচনায়। তবে এবার ঐতিহাসিক
ঘটনার সাক্ষী হয়েছে মার্কিনীরা। প্রথমবারে মত কোন সাবেক প্রেসিডেন্টকে ফৌজদারি অভিযোগে
গ্রেপ্তার হতে দেখলেন। যদিও গ্রেপ্তারের পরই মুক্তি পান, ট্রাম্প। মুক্তি পেয়ে কোন
কথা না বলেই, তিনি নিউইয়র্কের ম্যানহাটান আদালত চত্বর ছাড়েন।
স্টরমি ড্যানিয়েলস
নামের এক পর্ন তারকাকে মুখ বন্ধ রাখতে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার ঘুষ দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের
সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অর্থ দেওয়া সংক্রান্ত মামলায় হাজিরা দিতে মঙ্গলবার
নিউইয়র্কে ম্যানহাটনের আদালতে উপস্থিত হন ট্রাম্প। ম্যানহাটনের আদালতে হাজির হলে তার
আঙ্গুলের ছাপ ও ছবি নেয়া হয়। যার মাধ্যমে তাকে আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে
তাকে পুলিশের হেফাজতে নিয়ে কিছুক্ষণ পর বিচারকের সামনে হাজির করা হয়। আদালতে ডোনাল্ড
ট্রাম্প ছিলেন অনেকটা শান্ত।
আদালতে শুনানিতে
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা ৩৪টি অভিযোগ প্রাথমিকভাব প্রমাণ হয়নি। সবগুলো অভিযোগে নিজেকে
নির্দোষ দাবি করেন ট্রাম্প। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ৪ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছে
আদালত।
মঙ্গলবার
প্রায় এক ঘণ্টা পর আদালত ত্যাগ করেন তিনি। এরপর ট্রাম্প নিউইয়র্ক থেকে ফ্লোরিডায় চলে
যান। সেখানে আগে থেকেই তার অনেক সমর্থক। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোয় ট্রাম্পের বাড়ির বাইরে
জড় হওয়া সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। এসময় কড়া ভাষায় বিচার সংশ্লিষ্ট
সবার সমালোচনা করেন। বলেন, এসব মামলার মানে হচ্ছে পুরো জাতিকে অপমান করা।
এসময় প্রেসিডেন্ট
জো বাইডেন এবং তার প্রশাসনের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা
খারাপ। অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। রাশিয়া চীনের সঙ্গে যোগ
দিয়েছে। সৌদি আরব ইরানের সঙ্গে। তিনি প্রেসিডেন্ট থাকলে এর কিছুই হতো না বলে দাবি করেন
ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি জানান ট্রাম্পের ব্যাপারে
তার কিছু বলার নেই। মঙ্গলবার প্রায় এক ঘণ্টা পর আদালত ত্যাগ করেন তিনি।
এর আগে,
গত সপ্তাহে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের পর থেকে তার নির্বাচনী প্রচারণা টিম চাঁদা
সংগ্রহ করে আসছে। এক সপ্তাহে ৮০ লাখ ডলার চাঁদা পেয়েছেন বলে তারা দাবি করেছেন তারা।
ট্রাম্প শিবির বলছে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী
হওয়ার সম্ভাবনা তার বেড়ে গেছে। অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের চেয়ে জনপ্রিয়তার দৌড়ে
তিনি এগিয়ে গেছেন। ইতোমধ্যেই ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। তবে এ অবস্থায় ট্রাম্পের
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে দেশটির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো
অভিযোগ বা ফৌজদারি অপরাধের পক্ষে রায় হলেও, ট্রাম্প যদি চান তাহলে তিনি নির্বাচনি প্রচারণা
চালিয়ে যেতে পারবেন।
আর তিনি
এরইমধ্যে আভাস দিয়েছেন, যাই হোক না কেন তিনি সামনে এগিয়ে যাবেন।
বাস্তবিকপক্ষে,
যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনো আইন নেই যা একজন প্রার্থী, যিনি অপরাধের জড়িত থাকার কারণে দণ্ডিত
হয়েছেন তাকে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো বা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত
রাখবে। এমনকি কারাগারে থেকেও তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
তবে ট্রাম্পের
গ্রেফতার অবশ্যই তার নির্বাচনি প্রচারণাকে জটিল করে তুলবে। এর ফলে সরাসরি প্রচারণা
চালানো এবং বিভিন্ন বিতর্কে হাজির হওয়ায় প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়বেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা
বলছেন- লাভের মধ্যে লাভ হতে পারে বিষয়টি ট্রাম্পের সমর্থকসংখ্যা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পরই মুক্তি পেয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই ঘোষণা দিয়েছেন,
তিনি আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে চান। আগামী বছর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার
আগে আজ মঙ্গলবার এক মামলায় আদালতে হাজির হওয়ার গ্রেপ্তার হলেন ট্রাম্প।
আদালতে দোষি সাব্যস্ত হলে ট্রাম্পের চার বছর কারাদণ্ড
হতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো কারদণ্ড হলে কী হবে। ট্রাম্প কি নির্বাচন করতে পারবেন?
ইউএসএ টুডের
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করার এ ঘটনা তাঁকে রাজনৈতিকভাবে সাহায্য করবে
নাকি তার জন্য বিপর্যয় সৃষ্টি করবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিক তহবিল সংগ্রহের
দিকে খেয়াল করলে দেখা যায়, এই অভিযোগ ট্রাম্পের ভিত্তিকে আরও সংহত করেছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা
বলছেন, আইনগত দিক থেকে ট্রাম্পের জন্য এই অভিযোগ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কোনো
বাধা তৈরি করবে না।
লয়োলা ’ল
স্কুলের পাবলিক সার্ভিস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জেসিকা লেভিনসন বলেন, আইনগতভাবে
বলতে গেলে, সাবেক প্রেসিডেন্ট যদি রাষ্ট্রীয় অপরাধের জন্য অভিযুক্ত হন বা এমনকি দোষী
সাব্যস্তও হন তারপরও প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু
বাস্তবতা হলো তিনি দোষি সাব্যস্ত হয়ে কারাগারে গেলে কিভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবেন,
আর নির্বাচিত হলে কীভাবে কারাগার থেকে দেশ চালাবেন তিনি?
জেসিকা বলেন,
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য যোগ্যতা নির্ধারণ
করা আছে। তিনটি যোগ্যতা হলো, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করতে হবে। আরেকটি হচ্ছে বয়স হতে
হবে কমপক্ষে ৩৫ বছর। এ ছাড়া টানা ১৪ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বসবাস করতে হবে।
ডোনাল্ড
ট্রাম্প অবশ্য আগেই বলেছেন, আইনি জটিলতা থাকলেও ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
থেকে তিনি পিছু হটবেন না।
এমএইচ/